কলকাতা, ১ জুলাই, ২০২৬:
পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী মিলিন্দ দেওস্করের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় লক্ষ লক্ষ যাত্রীর ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে বদলে দিতে একটি বড়সড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “স্বচ্ছতা চ্যাম্পিয়ন” ফেজ ১ এবং ফেজ ২ অভিযানের বিপুল সাফল্যের পর, যা মূলত গণসচেতনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের ওপর সফলভাবে আলোকপাত করেছিল, পূর্ব রেল এখন এই মিশনের তৃতীয় এবং সবচেয়ে জোরালো পর্ব শুরু করতে চলেছে: “ইস্টার্ন রেলওয়ে ইজ ওয়াচিং ইউ” (পূর্ব রেল আপনার ওপর নজর রাখছে)। আগামী ৪ জুলাই, ২০২৬ থেকে পূর্ব রেল চত্বরে নোংরা ফেলা এবং থুতু ফেলার বিরুদ্ধে একটি ‘জিরো-টলারেন্স’ বা শূন্য-সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করছে। এই অভিযানটি শুধুমাত্র সচেতনতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; স্টেশনগুলি যাতে পরিচ্ছন্ন থাকে তা নিশ্চিত করতে এটি কঠোর নজরদারি এবং সক্রিয় যাত্রী-অংশগ্রহণকে সামনে নিয়ে আসছে।
পূর্ব রেল তার স্টেশনগুলিকে হাই-ডেফিনিশন সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ডেডিকেটেড মনিটরিং স্টাফের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কে সজ্জিত করেছে, যার অর্থ স্টেশন চত্বরের প্রতিটি কোণ এখন অবিরাম নজরদারিতে রয়েছে। নোংরা বা থুতু ফেলতে গিয়ে কেউ ধরা পড়লে এই ক্যামেরাগুলির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা হবে এবং ঘটনাস্থলেই জরিমানা করা হবে। এই উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে পূর্ব রেল যাত্রীদের নিজেদের স্টেশনের অভিভাবক হিসেবে কাজ করার ক্ষমতা দিচ্ছে। কোনো যাত্রী যদি কাউকে নোংরা ফেলতে বা থুতু ফেলতে দেখেন, তবে তারা কেবল অপরাধীর একটি ছবি তুলে নির্দিষ্ট নম্বরে পাঠিয়ে দিতে পারেন। ছবিটি পাওয়ার পর, পূর্ব রেল সেই ছবি থেকে অপরাধীকে শনাক্ত করবে এবং তার ওপর জরিমানা আরোপ করবে। তাছাড়াও, যে যাত্রী ছবিটি পাঠিয়েছেন তাকে “ক্যাপ্টেন ক্লিন” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং তার এই অবদানের প্রশংসাস্বরূপ পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে একটি শংসাপত্র প্রদান করা হবে। এই অনন্য বৈশিষ্ট্যটি প্রত্যেক দায়িত্বশীল যাত্রীকে সার্বজনীক স্থান পরিষ্কার রাখার মিশনে সরাসরি অংশীদারে পরিণত করবে।
এই অভিযানের জমকালো সূচনা হবে আগামী ৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখে হাওড়া স্টেশনে, যেখানে জেনারেল ম্যানেজার শ্রী মিলিন্দ দেওস্কর ব্যক্তিগতভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন, যা পূর্ব রেলের স্টেশনগুলির জন্য একটি নতুন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ যুগের সূচনা করবে। এই নতুন উদ্যোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (CPRO) শ্রী শিবরাম মাঝি বলেন, “পরিচ্ছন্নতা একটি যৌথ দায়িত্ব, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক কাজ নয়। ‘ইস্টার্ন রেলওয়ে ইজ ওয়াচিং ইউ’ অভিযানের মাধ্যমে আমরা নজরদারি এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণের মধ্যে ব্যবধানটি ঘুচিয়ে দিচ্ছি। আমাদের স্টেশনগুলিকে পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ রাখতে যাত্রীরা আমাদের সাথে হাত মেলাবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। আপনি যদি কোনো অন্যায় দেখেন, তবে তা জানান—আসুন আমরা সকলে মিলে আমাদের রেলওয়ে স্টেশনগুলিকে দেশের গৌরব হিসেবে গড়ে তুলতে একসাথে কাজ করি।” পূর্ব রেল সমস্ত যাত্রীদের সহযোগিতা করার এবং সার্বজনীক স্থানের পবিত্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করার আহ্বান জানাচ্ছে, কারণ পরিচ্ছন্ন স্টেশন পরিশেষে যাত্রীদের নিজেদের হাত ধরেই শুরু হয়।






