কলকাতা, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬:

পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতী গীতিকা পাণ্ডের নেতৃত্বে চারটি ডিভিশন—হাওড়া, শিয়ালদহ, আসানসোল ও মালদহ—এবং কাঁচরাপাড়া, লিলুয়া ও জামালপুরের গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্কশপগুলিতে স্বচ্ছতা হি সেবা–২০২৬ কর্মসূচি আরও জোরদার করা হয়েছে। “স্বচ্ছতায় সহভাগ: স্বচ্ছ ভারত, বিকশিত ভারত” ভাবনাকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশের স্থায়িত্ব, জনসাধারণের অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।

মালদহ ডিভিশনে বক্স ক্রিকেট, বাস্কেটবল, ভলিবল এবং বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া-সহ ‘স্পোর্টস ফর স্বচ্ছতা’ কর্মসূচি আয়োজিত হয়। এর পরেই শূন্য-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ধারণাকে উৎসাহিত করতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। ডিভিশনাল রেলওয়ে হাসপাতাল থেকে ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের দফতর পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশেও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রী সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে চার-বিনে বর্জ্য পৃথকীকরণ, যথাযথ বর্জ্য নিষ্পত্তি এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জনের বিষয়ে সচেতন করা হয়।

আসানসোল ডিভিশনের MDZTI, ভূলিতে ‘স্পোর্টস ফর স্বচ্ছতা’-র অংশ হিসেবে একটি ভলিবল ম্যাচের পর পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। আসানসোলে সাফাই মিত্রদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। দুর্গাপুর ও রানিগঞ্জে পরিচ্ছন্নতা এবং যাত্রী সচেতনতা অভিযান পরিচালিত হয়। আন্দালে ‘স্বচ্ছ নীর’ কর্মসূচি পালন করা হয়। এছাড়াও দুবরাজপুর ও সিমুলতলায় সচেতনতা কর্মসূচিতে পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা অংশগ্রহণ করেন।
হাওড়া ডিভিশনের শেওড়াফুলি ও আজিমগঞ্জ সিটি স্টেশনের কাছে জলাশয় পরিষ্কারের অভিযান চালানো হয়। জলাশয় ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়াও বোলপুর রেলওয়ে প্লেগ্রাউন্ডে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হয়।

শিয়ালদহ ডিভিশনে রেলওয়ে প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। শূন্য-বর্জ্য ক্রীড়া অনুষ্ঠান আয়োজনের পর সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। রেলওয়ের অধীন জলাশয়গুলিতে উৎসব-পরবর্তী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে ফুল ও অন্যান্য জৈব বর্জ্যের যথাযথ নিষ্পত্তি এবং কম্পোস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। ঐতিহ্যবাহী স্টেশন, মিউজিয়াম কোচ, স্বচ্ছ আইকনিক স্থান এবং অধিক যাত্রীসমাগম হয় এমন পর্যটনকেন্দ্রিক স্টেশনগুলিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও থিমভিত্তিক প্রচার অব্যাহত রাখা হয়েছে। কমিউনিটি স্যানিটারি কমপ্লেক্স, পাবলিক টয়লেট এবং ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে ভবনগুলিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি বলেন, “স্বচ্ছতা হি সেবা শুধুমাত্র একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়, এটি একটি সম্মিলিত দায়িত্ব, যেখানে ধারাবাহিক জনসাধারণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘স্পোর্টস ফর স্বচ্ছতা’, উৎসব-পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে পূর্ব রেল তার কর্মী, যাত্রী এবং সাধারণ মানুষকে দায়িত্বশীল ও টেকসই পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গ্রহণে উৎসাহিত করছে।”

স্বচ্ছতা হি সেবা–২০২৬-এর আওতায় গৃহীত এই উদ্যোগগুলি পূর্ব রেলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও এলাকায় পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি, পরিবেশগত দায়বদ্ধতা এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণ আরও সুদৃঢ় করার প্রতি পূর্ব রেলের অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করে।