আজ চার পুরসভার ভোটের ফল ঘোষণা হয়েছে। বিধাননগর, চন্দননগর, আসানসোল ও শিলিগুড়ি – এই চার পুরসভার ২২৬টি ওয়ার্ডের জন্য প্রায় শেষের পথে ভোট গণনা। ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে চার পুরসভার সাড়ে ন’শো প্রার্থীর। প্রথমে ED বা ইলেকশন ডিউটি ভোট অর্থাৎ ভোটকর্মীদের ভোট গণনা শুরু হয়, এরপর ইভিএম গণনা হয়। এদিকে বিধানসভা নির্বাচনের ফলের নিরিখে ভোট শতাংশে পিছিয়ে গেল বিজেপি। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজ্য সরকারকেই দুষেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতার কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রকে হাস্যাস্পদ করে তোলা হয়েছে। রেজাল্ট দেখে বোঝা যাচ্ছে ৪ পুরসভার নির্বাচন প্রক্রিয়া আসলে প্রহসন’। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর এমনই প্রতিক্রিয়া বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর।

রাজ্যের চার পুরসভা আসানসোল, বিধাননগর, চন্দননগর ও শিলিগুড়ির ভোটে ঘাসফুল ঝড়। বিরোধীদের বহু পিছনে ফেলে চারটি পুরসভাতেই ক্ষমতা দখল করতে চলেছে তৃণমূল। এরইমধ্যে চন্দননগর ও বিধাননগর পুরভোটে বিজেপিকে পিছনে ফেলে  ভোট শতাংশের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল বামফ্রন্ট। শিলিগুড়ি ও আসানসোলে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও তাদের থেকে খুব বেশি দূরে নেই বামফ্রন্ট।  এতদিন রাজ্য রাজনীতির বিরোধী রাজনীতির ফোকাস ছিল বিজেপির দিকে। গত বিধানসভা নির্বাচনে বাম বা কংগ্রেস কোনও আসন পায়নি। কিন্তু বিজেপি ৭৭ আসন পেয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে যে ভোট হয়েছে, তাতে বিরোধী পরিসরের  ক্ষেত্রে বিজেপির ক্রমশ পিছু হঠার চিত্র ফুটে উঠছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, বিরোধী রাজনীতির ভরকেন্দ্র কি ফের বামফ্রন্টের দিকে যাচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে বিধাননগরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বামফ্রন্ট। অথচ বিধানসভা ভোটের ফলে নিরিখে এখানে দ্বিতীয় ছিল বিজেপি। বিধাননগর পুরভোটে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোটের হার ৭৩.৮২ শতাংশ। সেখানে বিজেপি পেয়েছে ৮.৩৫ শতাংশ ভোট। বামফ্রন্ট পেয়েছে ১০.৬৬ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ, প্রাপ্ত ভোটের হারের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে বামফ্রন্ট। কংগ্রেস পেয়েছে ৩.৪৯ শতাংশ ভোট।

 

আসানসোল পুরসভা অঞ্চলে দুটি বিধানসভা আসন দখলে রয়েছে বিজেপির। কিন্তু পুরভোটে তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ১৫.৯০ শতাংশ। এক্ষেত্রে তারা দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও খুব কাছেই রয়েছে বামফ্রন্ট। তাদের প্রাপ্ত ভোট প্রায় ১২ শতাংশ। ২ শতাংশ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে কংগ্রেস।