কলকাতা: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

গঙ্গাসাগর মেলায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে আগত লক্ষাধিক পূণ্যার্থীর যাত্রা যেন সময়মতো, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়, সেই লক্ষ্যে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন কাকদ্বীপ ও নামখানা অভিমুখে অতিরিক্ত ট্রেন পরিষেবা চালু করেছে। যাত্রী চাপের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করে আজই ডিভিশনের পক্ষ থেকে আরও ৪টি বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে। এর ফলে গঙ্গাসাগর অভিমুখে মোট ট্রেন পরিষেবার সংখ্যা ২৩ থেকে বেড়ে ২৭ হয়েছে। প্রতিটি ট্রেনে গড়ে ২,৫০০-রও বেশি যাত্রী পরিবহণ করা হচ্ছে।

*আজ চালু হওয়া অতিরিক্ত ট্রেনগুলি হলো—*
*৩৪৭২২ শিয়ালদহ–লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল (০৮:১৫) — নামখানা পর্যন্ত সম্প্রসারিত*
*৩৪৭২৬ শিয়ালদহ–লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল (১১:০২) — নামখানা পর্যন্ত সম্প্রসারিত*
*৩৪৭৩০ শিয়ালদহ–লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল (১২:৫০) — নামখানা পর্যন্ত সম্প্রসারিত*
*৩৪৭৩৬ শিয়ালদহ–লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল (১৫:৫০) — নামখানা পর্যন্ত সম্প্রসারিত*

এই আগাম ও সক্রিয় উদ্যোগ শিয়ালদহ ডিভিশনের একটি সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও সুচিন্তিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পূণ্যার্থীদের জন্য একটি “ঝামেলাহীন” তীর্থযাত্রা নিশ্চিত করা।
ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে রিয়েল-টাইম ভিত্তিতে ট্রেন পরিষেবার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। স্টেশনগুলিতে দীর্ঘ লাইনের সমস্যা কমাতে এম-ইউটিএস (M-UTS) টিকিট ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার চালু করা হয়েছে। পূণ্যার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য বিশেষ হোল্ডিং এরিয়া তৈরি করা হয়েছে। প্রবেশপথে যাত্রীদের সহায়তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে আরপিএফ ও বাণিজ্য বিভাগীয় কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। শিয়ালদহ, নামখানা ও কাকদ্বীপ স্টেশনে অতিরিক্ত সাফাইকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে যাতে মেলা চলাকালীন সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি বজায় থাকে।

ডিআরএম শিয়ালদহ শ্রী রাজীব সাক্সেনা জানান, “পূর্ণার্থীদের কল্যাণে যাত্রাপথের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইন্টিগ্রেটেড হেল্প ডেস্ক, চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্র ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিয়ালদহ ডিভিশন প্রতিটি পূণ্যার্থীর নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতি সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে আমরা চাই গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের যাত্রা যেন আরও আধ্যাত্মিক ও চাপমুক্ত হয়।”
পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষেবায় তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যাতে দক্ষতা ও যত্নের সঙ্গে গঙ্গাসাগর মেলার পবিত্রতা অক্ষুণ্ণ থাকে।