নিউজসুপার তানিয়া কুন্ডু কলকাতা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬:
দুর্গাপুজো ২০২৬-এ ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত সিয়ালদহ ডিভিশনে মোট ২,৬৩,৩৯,৬৯৮ জন যাত্রী যাতায়াত করেছেন, যা একটি রেকর্ড। গত বছরের তুলনায় এই যাত্রীসংখ্যা প্রায় ৩৩.৪৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষকে উৎসবের আনন্দে সামিল হতে সাহায্য করার ক্ষেত্রে শহরতলির রেল পরিষেবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এই পরিসংখ্যানের মাধ্যমে আরও একবার প্রতিফলিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর উৎসবকাল গত বছরের তুলনায় এক দিন বেশি ছিল, যেখানে সপ্তমীও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই অতিরিক্ত দিনটিও সামগ্রিক যাত্রী চলাচল বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে।
উৎসবের সময় বিপুল যাত্রীচাপ সামাল দিতে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত মোট ২৬৬টি বিশেষ ট্রেন পরিষেবা চালানো হয়। এর ফলে যাত্রীদের যাতায়াতের অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হয় এবং তাঁরা আরও সুবিধাজনক ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণভাবে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন।
এই উৎসবের সময় সিয়ালদহ, দমদম, বিধাননগর রোড, সোনারপুর, বালিগঞ্জ, রানাঘাট এবং কল্যাণী স্টেশনে বিশেষভাবে বেশি যাত্রীসমাগম লক্ষ্য করা যায়। এই স্টেশনগুলির মধ্যে কল্যাণীতে যাত্রীসংখ্যা প্রায় ১৪.০১% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উৎসবের মরশুমে যাত্রী চলাচলের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিকে তুলে ধরে।
বিপুল জনসমাগম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সিয়ালদহ ডিভিশনের সমস্ত বিভাগ পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করেছে। স্টেশনগুলিতে কার্যকর ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীদের সঠিক দিকনির্দেশ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
সিয়ালদহের ডিআরএম শ্রী রাজীব সাক্সেনার নেতৃত্বে কমার্শিয়াল, অপারেটিং, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF), মেডিক্যাল এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীরা অসাধারণ দলগত সমন্বয় ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। যাত্রীদের সঠিক পথে পরিচালিত করা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য রেলকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের বিভিন্ন স্টেশনে মোতায়েন রাখা হয়। পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম এবং মেগাফোনের মাধ্যমে যাত্রীদের নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ডিভিশনাল ওয়ার রুম থেকে ধারাবাহিক নজরদারি ও ভিড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পরিচালনগত প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়।
সিয়ালদহের ডিআরএম শ্রী রাজীব সাক্সেনা বলেন, “দুর্গাপুজো ২০২৬-এ বিপুল সংখ্যক যাত্রীর চলাচল সিয়ালদহ ডিভিশন সফলভাবে পরিচালনা করেছে। সমস্ত বিভাগের আধিকারিক, কর্মী এবং সামনের সারিতে কর্মরত রেলকর্মীদের অসাধারণ কর্মদক্ষতা, নিষ্ঠা ও দলগত প্রচেষ্টার জন্য আমি আন্তরিকভাবে তাঁদের প্রশংসা করছি। বিশেষ ট্রেন পরিচালনা এবং কার্যকর ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পাশাপাশি তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা উৎসবের পুরো সময় জুড়ে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
“এই উৎসবের ভিড়ের মধ্যে যাত্রীদের সহযোগিতা, ধৈর্য ও বোঝাপড়ার জন্য আমি তাঁদের প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। বিপুল সংখ্যক যাত্রীর চলাচল সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে তাঁদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই সাফল্য আমাদের সমগ্র রেল পরিবারের সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতিফলন এবং প্রত্যেক যাত্রীর জন্য নিরাপদ, সুবিধাজনক ও নির্ভরযোগ্য রেল পরিষেবা প্রদানের প্রতি আমাদের নিরন্তর প্রচেষ্টার পরিচায়ক।”









