কলকাতা — ৩১ আগস্ট ২০২৬
আজ সকাল প্রায় ৯:১৫ নাগাদ শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে, স্টেশন ভবন থেকে পৃথকভাবে অবস্থিত একটি রেল কোচ রেস্তোরাঁয় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি অবিলম্বে ডিভিশনাল কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘিরে দেওয়া হয়।
দমকল বাহিনী প্রায় ৯:২৪ নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সঙ্গে সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে প্রায় ১০:০০টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় এবং ১০:৪৫ নাগাদ আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলা হয়।
রেস্তোরাঁটি মূল স্টেশন ভবন থেকে পৃথকভাবে অবস্থিত হওয়ায় এই ঘটনায় যাত্রী চলাচল বা ট্রেন পরিষেবায় কোনওরকম বিঘ্ন ঘটেনি। ঘটনাকালে যাত্রীদের মধ্যেও কোনও আতঙ্ক বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি এবং শিয়ালদহ স্টেশনে স্বাভাবিক যাত্রী চলাচল অব্যাহত ছিল। কোনও আঘাত বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে স্টেশন ভবনের জন্য স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রেস্তোরাঁ এলাকাকে আওতাভুক্ত করে না, কারণ ওই এলাকার অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখার দায়িত্ব ছিল লাইসেন্সধারীর। দমকল বিভাগের প্রয়োজন অনুযায়ী আগুন নেভানোর কাজে সহায়তার জন্য স্টেশনের জল হাইড্র্যান্ট ব্যবস্থা থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল সরবরাহ করা হয়, যার জন্য পাম্পগুলি ম্যানুয়ালি চালু করা হয়।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, “ফ্রাইং প্যান”-এ থাকা রান্নার তেল অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার কারণে, সম্ভবত উচ্চ তাপমাত্রা সেটিংয়ের ফলে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পরবর্তীতে আগুনের শিখা ছাদের দিকে উঠে যায় এবং ডাক্ট ও ছাদের ইনসুলেশন সামগ্রীতে আগুন ধরে যায়। রেস্তোরাঁটি একটি আবদ্ধ স্থান হওয়ায় ভিতরে প্রচুর ধোঁয়াও জমে যায়।
ঘটনার তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত লাইসেন্স অবিলম্বে স্থগিত করা হয়েছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়িত্ব স্থির করার জন্য বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তে লাইসেন্সধারীর কোনওরকম গাফিলতি বা অবহেলা প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ডিভিশনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দমকল বিভাগের দ্রুত তৎপরতা এবং রেলকর্মীদের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর সমন্বয়ের ফলে পরিস্থিতি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এই দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ফলে যাত্রী নিরাপত্তা, যাত্রী চলাচল বা ট্রেন পরিষেবায় কোনওরকম প্রভাব পড়েনি।









