নিউজসুপার কলকাতা, ১৬ জানুয়ারি :

পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীর যাতায়াতকে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে ডিভিশন কর্তৃপক্ষ যে নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করেছে, তা সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে।
তীর্থযাত্রীদের বিপুল ভিড়, বিশেষত বিহারমুখী যাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়, শিয়ালদহ ডিভিশন আগাম পরিকল্পনা ও সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাত্রাপথকে নির্বিঘ্ন ও আরামদায়ক করে তুলেছে।

মেলা চলাকালীন শিয়ালদহ থেকে নামখানা ও কাকদ্বীপগামী মোট ৩৫২টি বিশেষ ট্রেন চালানো হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে। ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছনো নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
১৫ ও ১৬ জানুয়ারি অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ১৫ জানুয়ারি বিহারমুখী যাত্রীদের হঠাৎ ভিড় বেড়ে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে একটি বিশেষ “স্ক্র্যাচ রেক” ট্রেন প্রস্তুত করে পরিষেবায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই দ্রুত সিদ্ধান্ত অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণে এনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের তাত্ক্ষণিক স্বস্তি প্রদান করে।

তীর্থযাত্রীদের বহনক্ষমতা বৃদ্ধি ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি বিহারগামী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মেল/এক্সপ্রেস ট্রেনে অতিরিক্ত দুটি করে জেনারেল ক্লাস কোচ সংযোজন করা হয়।
বৃহৎ হোল্ডিং এরিয়ার কৌশলগত ব্যবহারের মাধ্যমে যাত্রী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে। প্রবেশ ও প্রস্থান গেট আলাদা করে দেওয়ায় যাত্রী চলাচল সুশৃঙ্খল হয় এবং সার্কুলেটিং এরিয়ায় যানজট এড়ানো সম্ভব হয়।

দ্রুত ও সহজ টিকিট প্রাপ্তির জন্য অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার চালু করা হয়। পাশাপাশি একটি অভিনব উদ্যোগ হিসেবে এম-ইউটিএস (M-UTS) পরিষেবা চালু করা হয়, যেখানে বুকিং ক্লার্করা যাত্রীদের কাছে গিয়ে সরাসরি টিকিট প্রদান করেন। এর ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন পড়েনি এবং বিশেষ করে প্রবীণ ও অসহায় যাত্রীরা উপকৃত হয়েছেন। ১১.০১.২৬ থেকে ১৫.০১.২৬ পর্যন্ত গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬-এ মোট প্রায় ১০ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫% বেশি।

শিয়ালদহ ডিভিশন নিশ্চিত করেছে যে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী অত্যন্ত স্বল্প ব্যয়ে গঙ্গাসাগর মেলায় যাতায়াত করতে পারেন। ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব সত্ত্বেও ভাড়া মাত্র ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যাতে সাধারণ ও প্রান্তিক ভক্তরাও সহজে এই পবিত্র যাত্রায় অংশ নিতে পারেন।
যাত্রী নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে একটি বিশেষ নিরাপত্তা দল মোতায়েন করা হয়। ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারির মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। বোর্ডিং ও নামার স্থানে নিরাপত্তা কর্মীরা মোতায়েন ছিলেন, বিশেষত প্রতিবন্ধী ও প্রয়োজনীয় সহায়তাপ্রাপ্ত যাত্রীদের সাহায্য করতে।

শিয়ালদহের ডিআরএম শ্রী রাজীব সাক্সেনা জানান, গঙ্গাসাগর মেলা চলাকালীন শিয়ালদহ ডিভিশনের নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা তীর্থযাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। এই সাফল্য ডিভিশনের প্রতিটি কর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফল, যাঁরা লক্ষ লক্ষ ভক্তের জন্য স্মরণীয় ও সুশৃঙ্খল তীর্থযাত্রা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।