*জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতে শিয়ালদহ ডিভিশনের উদ্যোগে কাঁকিনাড়ায় পূর্ণাঙ্গ মক ড্রিল*

*• NDRF, RPF, ফায়ার ব্রিগেড, সিভিল ডিফেন্স, সেন্ট জন অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিক্যাল টিমের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান পরিচালিত।*
*• আধুনিক কাটিং ও রেসকিউ সরঞ্জামের সাহায্যে ২০ জন ভার্চুয়াল যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।*
*• জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, পারস্পরিক সমন্বয় এবং Standard Operating Procedures (SOPs)-এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়।*

কলকাতা, ২৮ আগস্ট, ২০২৬:

ভারতীয় রেলের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, শিয়ালদহ ডিভিশনের উদ্যোগে আজ কাঁকিনাড়া স্টেশনে একটি পূর্ণাঙ্গ মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়। বড় ধরনের রেল দুর্ঘটনার পরিস্থিতিতে রেলের উদ্ধারকারী দলগুলি NDRF, রাজ্য সরকার এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে উদ্ধার ও ত্রাণকার্য পরিচালনা করতে পারে, তা যাচাই করাই ছিল এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য।

মক ড্রিলের অংশ হিসেবে একটি কাল্পনিক ট্রেন দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। নির্ধারিত পরিস্থিতি অনুযায়ী, *০০৩৫১ নম্বর শিয়ালদহ–লালগোলা প্যাসেঞ্জার* ট্রেনটি কাঁকিনাড়া স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে প্রবেশ করে। ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার পয়েন্টটি সুরক্ষিত করতে ব্যর্থ হন। একই সময়ে অন্য একটি ট্রেন স্টেশনের দিকে এগিয়ে আসে এবং সেই ট্রেনের চালক সিগন্যাল অমান্য করে ‘Signal at Danger’ অবস্থায় সেটি অতিক্রম করেন। এর ফলে ১ নম্বর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীবাহী ট্রেনটির সঙ্গে আগত ট্রেনটির সংঘর্ষের একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এই কাল্পনিক দুর্ঘটনার ফলে যাত্রীবাহী ট্রেনের একটি কোচ লাইনচ্যুত হয় এবং অপর একটি কোচ উল্টে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কোচের বিভিন্ন অংশে যাত্রী আটকে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এর ফলে একটি সুসংগঠিত ও সমন্বিত উদ্ধার অভিযানের প্রয়োজন হয়।

কাল্পনিক দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে শিয়ালদহ ডিভিশন এবং ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (NDRF)-এর উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত কোচ থেকে মোট ২০ জন ভার্চুয়াল (ডামি) যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। মহড়ায় গুরুতর আহত হিসেবে দেখানো যাত্রীদের পরবর্তী চিকিৎসার জন্য নৈহাটি, জগদ্দল স্টেট জেনারেল হাসপাতাল এবং বি.এন. বোস হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই কাল্পনিক দুর্ঘটনায় ০১ জনের মৃত্যু, ০৫ জন গুরুতর আহত এবং ০৭ জন সামান্য আহত হয়েছে বলে দেখানো হয়।

এই মহড়ার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত কোচের ভিতরে আটকে পড়া যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধারের প্রক্রিয়ার বাস্তবসম্মত অনুশীলন। উদ্ধারকারী দলগুলি আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামের সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত কোচের কাঠামো কেটে যাত্রীদের কাছে পৌঁছনোর পথ তৈরি এবং তাঁদের নিরাপদে বাইরে বের করে আনার পদ্ধতি প্রদর্শন করে। এই কাজে হাই-ক্যাপাসিটি কাটার, সেপারেটর, প্লাজমা কাটিং টুলস-সহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে উদ্ধারকর্মীরা বাস্তব জরুরি পরিস্থিতির মতো প্রতিকূল অবস্থায় কাজ করার ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা লাভ করেন।

যৌথ মক ড্রিলটি ১৭:০০ ঘণ্টায় শুরু হয় এবং উদ্ধারকাজ, চিকিৎসা সহায়তা, যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া এবং ঘটনাস্থল পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে এগিয়ে চলে। ০০:০০ ঘণ্টায় জরুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ঘোষণা করা হয় এবং ঘটনাস্থল সম্পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধারের পর মক ড্রিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়।

এই মহড়ায় প্রায় ৩৫ জন NDRF কর্মী, ডিভিশনাল ডিজাস্টার রেসকিউ টিম, ২৩ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মী এবং ০৮ জন ফায়ার ব্রিগেড কর্মী উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। এছাড়াও ০৭ জন চিকিৎসক, ৩৬ জন প্যারামেডিক্যাল কর্মী, সেন্ট জন অ্যাম্বুলেন্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৯ জন সদস্য, ৩১ জন স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস এবং ৭৫ জন RPF কর্মী সক্রিয়ভাবে এই মহড়ায় অংশগ্রহণ করেন।

শিয়ালদহের DRM শ্রী রাজীব সাক্সেনার অনুপ্রেরণামূলক নেতৃত্বে এই মক ড্রিল পরিচালিত হয়। Sr. DSO শ্রী সুজিত কুমার সিনহা-সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ডিভিশনাল আধিকারিকরা মহড়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং সমগ্র কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

মক ড্রিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল অংশগ্রহণকারী সমস্ত দলের দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সতর্কতা ও জরুরি প্রস্তুতি মূল্যায়ন করা, উদ্ধার ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার সম্ভাব্য ত্রুটি চিহ্নিত করা এবং রেলওয়ে, NDRF ও অন্যান্য জরুরি প্রতিক্রিয়া দলের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা। একইসঙ্গে, বাস্তব দুর্যোগের সময় অনুসরণীয় Standard Operating Procedures (SOPs)-এর কার্যকারিতা বাস্তবে পরীক্ষা ও মূল্যায়নের সুযোগও তৈরি হয়।

শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার শ্রী রাজীব সাক্সেনা বলেন, এই ধরনের পূর্ণাঙ্গ মক ড্রিল রেলের নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ধরনের মহড়া কর্মীদের যেকোনও আকস্মিক পরিস্থিতির জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে সাহায্য করে এবং প্রকৃত জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার, যাত্রী সরিয়ে নেওয়া, চিকিৎসা সহায়তা ও পুনরুদ্ধারের কাজ যাতে সমন্বিত, সময়োপযোগী এবং কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায়, তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।