*আরপিএফ আসানসোল বিভাগ সফলতাपूर्वक শ্রাবণী মেলা ২০২৬-এর নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করল*

কলকাতা, ২৮ আগস্ট, ২০২৬:

পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতী গীতিকা পাণ্ডের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ), আসানসোল বিভাগ ২৯ জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া শ্রাবণী মেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে পরিচালিত প্রায় এক মাসব্যাপী নিবিড় নিরাপত্তা এবং যাত্রী সহায়তা অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,০০,০০০ পূণ্যার্থীর আগমন বিবেচনা করে, আরপিএফ জসিডি, বৈদ্যনাথধাম, দেওঘর এবং বাসুকীনাথসহ প্রধান তীর্থক্ষেত্র কেন্দ্রিক স্টেশনগুলিতে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তার বন্দোবস্ত নিশ্চিত করেছিল। পুরো মেলা চলাকালীন তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ, মসৃণ এবং সুশৃঙ্খল যাতায়াত নিশ্চিত করতে ৩৭৮ জন আরপিএফ কর্মকর্তা ও কর্মী নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছিল।

এই মেলা চলাকালীন, আসানসোল বিভাগ একাধিক বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ‘অপারেশন নানহে ফরিস্তে’-এর অধীনে পরিবারবিচ্ছিন্ন ৮ জন শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করে তাদের স্বজন অথবা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার অফিসারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ‘অপারেশন আমানত’-এর অধীনে ৯টি ঘটনায় ফেলে যাওয়া মোট ১,২৫, ৫০০ টাকার জিনিসপত্র উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের কাছে নিরাপদে ফেরত দেওয়া হয়। ‘অপারেশন সেবা’-র মাধ্যমে বয়স্ক এবং অসুস্থ পূণ্যার্থীদের আশঙ্কাজনক অবস্থার ২টি ঘটনায় তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করা হয়। যাত্রী নিরাপত্তার দিক থেকে, যাত্রী-সংক্রান্ত অপরাধের ৪টি মামলা নথিভুক্ত করা হয় এবং ৪ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। উপরন্তু, ‘অপারেশন সতর্ক’-এর অধীনে বেআইনি মদ পরিবহনের ৩টি ঘটনা ধরা পড়ে, যার ফলে ২ জন গ্রেফতার হয় এবং আনুমানিক ৬৪,৩৬০ টাকা মূল্যের ৭৩.১৭০ লিটার অবৈধ মদ উদ্ধার করা হয়।

শ্রাবণী মেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে আরপিএফ আসানসোল বিভাগের এই প্রচেষ্টা যাত্রী নিরাপত্তা, কার্যকর ভিড় ব্যবস্থাপনা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং পূণ্যার্থীদের দ্রুত মানবিক সহায়তা প্রদানের প্রতি বাহিনীর দৃঢ় অঙ্গীকারকে প্রমাণ করে। এই সমন্বিত এবং নিষ্ঠাপূর্ণ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আরপিএফ আসানসোল বিভাগ লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থীকে এক নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও ঝামেলাহীন তীর্থযাত্রার অভিজ্ঞতা দিতে বিশেষ সাফল্য অর্জন করেছে। এই প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা শ্রী শিবরাম মাঝি জানান, “আমাদের আরপিএফ কর্মীদের এই ব্যতিক্রমী নিষ্ঠা পুরো শ্রাবণী মেলা ২০২৬ জুড়েই লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীর জন্য একটি মসৃণ, নিরাপদ এবং আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করেছে, যা যাত্রী কল্যাণ ও ভিড় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।”