শেষমেশ ছাত্রীদের আবেদন মঞ্জুর করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আপ্লুত ছাত্রছাত্রী

44

নিউজসুপার,তানিয়া কুন্ডু:-প্রতি বছরের মতো এই বছরও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক পর্যালোচনা সভার মধ্য দিয়ে শুরু হলো মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারী কাজকর্মের পর্যালোচনা। প্রতিটি জেলার বিধায়ক, সাংসদ, পৌরপ্রতিনিধি, পঞ্চায়েত সদস্য, বৃহৎ-মাঝারি শিল্পপতি, সাংবাদিকদের পাশাপাশি এই সভায় নিজেদের বক্তব্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পায় জেলার ছাত্রছাত্রীরা।

আজ মধ্যমগ্রামে অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যালোচনা সভায় পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে মৌমিতা দে, কাঁচড়াপাড়া থেকে ব্যারাকপুর হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এবং দমদম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বাসরুট সম্প্রসারণের আবেদন জানায়। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাজীবাড়ি মোড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামাঙ্কিত একটি প্রবেশদ্বার তৈরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর দিকনির্দেশনার কথা বলে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মৌমিতার সবকটি আবেদনই মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্ট দফতরের সচিবকে কাজগুলি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। আর এক ছাত্রী রিমা বড়ুয়ার কথা শুনে পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি চাকরি পরীক্ষার প্রশিক্ষনকেন্দ্র স্থাপন করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলার আর এক ছাত্রী তুলিকা ঘোষ বলেন, “উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে যখন ছাত্রছাত্রীরা মহাবিদ্যালয় অথবা মহাবিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় তখন কন্যাশ্রীসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সাহায্য পায়। কিন্তু যেসকল ছাত্রছাত্রী উপযুক্ত কোনো কারণবশত এক বা দুই বছর পড়াশোনা থেকে বিরত থেকে আবার যখন পড়াশোনায় ফিরতে চায় তখনও যেন তারা সরকারী প্রকল্পগুলো থেকে বঞ্চিত না হয় সেই দিকটা সুনিশ্চিত করতে”। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী তার এই সম্পুর্ন বক্তব্য মন দিয়ে শুনে সচিবকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আকাশ পাত্র, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বি.এড পড়ার বেতন পরিকাঠামোকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বেঁধে দিতে বলেন। এরপর সরোজিনী নাইডু গার্লস কলেজের ছাত্রী ইভ্লিন কউর বলেন, “মহাবিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ফর্মপূরণের নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রম হয়ে গেলে ছাত্রছাত্রীদের ২০০০-২৫০০ টাকা ফাইন দিতে হয়। এই ফাইনের পরিমাণ কমিয়ে দিলে ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হবে। ” মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষাদপ্তরের সচিবকে নির্দেশ দেন সকল বিশ্ববিদ্যালয় এবং মহাবিদ্যালয়গুলিকে এই বিষয় পুনর্বিবেচনার নির্দেশ পাঠানোর।

মুখ্যমন্ত্রীর সামনে ছাত্রপ্রতিনিধিরূপে ছাত্রছাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধা ও চিন্তাভাবনা তুলে ধরা দেখে নির্দ্বিধায় বলা যায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলা আগামীদিনের ছাত্র রাজনীতির নতুন মুখ খুঁজে পেয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াকে সাধুবাদ জানায় প্রায় সকলেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × 1 =